সিংগাইরে সংযোগ সড়ক ছাড়া সেতু: ৮ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে লাখ টাকার উন্নয়ন, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
মোঃ আনোয়ার হোসেন, সিংগাইর প্রতিনিধি:
জনগণের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল সেতুটি। কিন্তু সেতু নির্মাণের ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও তৈরি করা হয়নি কোনো সংযোগ সড়ক। ফলে সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি আজ স্থানীয়দের জন্য উপকারের চেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের উত্তর কানাইনগর গ্রামে দৃষ্টিনন্দন এই সেতুটি এখন এলাকাবাসীর কাছে যেন ‘গলার কাঁটা’।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর কানাইনগর বটতলা খালের ওপর নির্মিত ৬০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুটির দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই, করা হয়নি মাটি ভরাটও। নির্মাণের পর থেকেই সেতুটি কার্যত সম্পূর্ণ অচল ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কিছু মাটি ফেলে সরু পথ তৈরি করে হেঁটে চলাচল করলেও, যেকোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার ১০৬ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এএইচএম ব্রিকস’। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের এত বছর পরও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় সেতুর কোনো সুফল পাচ্ছেন না উত্তর কানাইনগর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, “ভেবেছিলাম সেতু হলে আমাদের যোগাযোগের কষ্ট দূর হবে, সহজেই মালামাল পরিবহন করা যাবে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলতে পারছে না। সেতু হয়ে আমাদের লাভ তো দূরের কথা, কষ্ট আরও বেড়েছে।”
কৃষক খালেক মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, “সেতু তৈরির আগে শুকনো মৌসুমে আমরা অনায়াসে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল বাড়িতে আনা-নেওয়া করতে পারতাম। এখন বিশাল সেতু দাঁড়িয়ে থাকলেও আমাদের কোনো কাজে আসছে না।”
স্থানীয় মুফতি জাকির হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং দ্রুত একটি টেকসই প্রকল্পের মাধ্যমে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি সচল করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আহাদী হোসেন জানান, “সেতুটির বিষয়ে এতদিন আমার জানা ছিল না। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।