রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

ডুমুরিয়ায় কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে তীর্থ ফৌজদার অভিযুক্ত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

ডুমুরিয়ায় কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে তীর্থ ফৌজদার অভিযুক্ত

বরুণ কান্তি মন্ডল
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে খুলনা শেখপাড়া বিদ্যুৎ অফিসে লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত তীর্থ ফৌজদার (২৬)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার নম্বর ৪২/২০২৬। মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদনে তীর্থ ফৌজদারকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ছাত্রী ব’ মণ্ডল ডুমুরিয়া উপজেলার সেনপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তার মা আমলতা মণ্ডল (৪৫) বাদী হয়ে মামলা করেন। বাদীর স্বামীর নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল।

প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ের প্রলোভনের অভিযোগ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত তীর্থ ফৌজদারের বাড়ি ডুমুরিয়া থানার কুলটি এলাকায়। বাদীর বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থাকায় ব’ মণ্ডলের সঙ্গে তীর্থ ফৌজদারের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পর্ক চলাকালে তীর্থ ফৌজদার ব’ মণ্ডলকে বিয়ের আশ্বাস দেন। এ সময় তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ ও বিভিন্ন স্থানে দেখা-সাক্ষাৎ হতো বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তবে পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে কথা উঠলে তীর্থ ফৌজদার নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ।

পরিত্যক্ত দোকানঘরে ধর্ষণের অভিযোগ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তীর্থ ফৌজদার ব’ মণ্ডলকে ডুমুরিয়ার সেনপাড়া এলাকায় বাদীর দেবর মিঠু মণ্ডলের পুরোনো/পরিত্যক্ত দোকানঘরে নিয়ে যান।

সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার নথিতে অভিযোগের সময়কাল ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে তীর্থ ফৌজদার ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় বিয়ের বিষয়ে তারা টালবাহানা করেন বলে মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও চারজনের নাম

মামলার নথিতে তীর্থ ফৌজদারের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—

তীর্থ ফৌজদার (২৬) পিতা: শক্তি ফৌজদার
*শক্তি ফৌজদার (৫৫) পিতা: মৃত ইন্দুভূষণ ফৌজদার

কনিকা বৈরাগী (৪৮) স্বামী: শক্তি ফৌজদার

মুকুল ফৌজদার (৫০) পিতা: মৃত ইন্দুভূষণ ফৌজদার
তীর্থ ফৌজদারের কাকিমা স্বামী: মুকুল ফৌজদার

মামলার নথিতে তাদের ঠিকানা খুলনার ডুমুরিয়া থানার কুলটি এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে তীর্থ ফৌজদারকে অভিযুক্ত উল্লেখ

মামলার অভিযোগের পর তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত, অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। তদন্ত শেষে দাখিল করা প্রতিবেদনে তীর্থ ফৌজদার (২৬)-কে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং মামলার অভিযোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তদন্তের ফলাফল আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মামলার নথি থেকে জানা যায়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা

মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় বিচারাধীন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। মামলাটির সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, খুলনা-এর কার্যক্রমের প্রসঙ্গও রয়েছে।

মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আদালতের সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

আইনগত সতর্কতা: মামলার অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনে তীর্থ ফৌজদারকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..