বটিয়াঘাটায় সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, স্বপ্নচূড়া যুব সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
মোঃ মিজানুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার:
সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৬নং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত “সবুজে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ” কর্মসূচির আওতায় সরকার প্রদত্ত পরিবেশবান্ধব ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রোপণ করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও গাছের চারা বিতরণ করে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয় মাননীয় সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান-এর সার্বিক সহযোগিতায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এবং ৬নং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রশাসকের উপস্থিতিতে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ ফর দ্য সুন্দরবন, বটিয়াঘাটা এবং স্বপ্নচূড়া যুব সংগঠন সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। সংগঠন দুটির স্বেচ্ছাসেবীরা চারা পরিবহন, রোপণ, বিতরণ এবং কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন করে তোলা এবং গাছের পরিচর্যার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উপস্থিত অতিথিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ ক্রমেই নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণ সমাজকে এ ধরনের উদ্যোগে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আয়োজকরা জানান, একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, বরং বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটি ক্ষয়রোধ এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রতিটি চারার সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে ইয়ুথ ফর দ্য সুন্দরবন, বটিয়াঘাটা এবং স্বপ্নচূড়া যুব সংগঠন-এর মতো তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ভবিষ্যতেও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।