রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

আখাউড়ায় রাতভর অবৈধ মাটি কাটা: কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়ক ঝুঁকিপূর্ণ, দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৯ বার পঠিত

আখাউড়ায় রাতভর অবৈধ মাটি কাটা:
কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়ক ঝুঁকিপূর্ণ, দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ

সারাদেশে ফসলি জমির মাটি কাটা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ২নং ধরখার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে শত শত একর ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ধরখার গ্রামের মৃত শেখ অহিদ মিয়ার পুত্র শেখ তারিফুল, সাবেক ইউপি সদস্য মৃত শেখ শহিদ মিয়ার পুত্র শেখ জুনায়েদ, রাব্বি ও মজিবুর নামের কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন ইটভাটায় পাচার করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব মাটি বহনকারী ট্রাক ও ডাম্পারের কারণে কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কে কাদামাটি ছড়িয়ে পড়ে সড়কটি মারাত্মকভাবে পিচ্ছিল হয়ে উঠছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং রাতের বেলা সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
স্থানীয়দের দাবি, মাসোহারার বিনিময়ে এসব মাটি বোঝাই গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন দালাল শামীম ও দালাল ইউসুফ। দুর্ঘটনা এড়ানো ও মহাসড়ককে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে অবিলম্বে এসব গাড়ির চলাচল বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কে সংঘটিত একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার তথাকথিত ‘মীমাংসা’ শামীমের মাধ্যমে করানো হয়—যা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আইনবহির্ভূত প্রভাবেরই ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে একাধিক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা এখনো দৃশ্যমান নয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শামীমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে প্রশাসনের সামনে চলাফেরা করছেন এতে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর দৈনিক আজকের দুর্নীতি পত্রিকার মোবাইল করেসপন্ডেন্ট এইচ এম শাহীন দেবিদ্বারে যাওয়ার পথে মিরপুর হাইওয়ে থানার এলাকায় শামীম ও ব্রাহ্মণপাড়ার সাইটশালা গ্রামের ইউসুফকে অবস্থান করতে দেখেন। পরে থানাসংলগ্ন বাদলের চায়ের দোকানে শামীমের সঙ্গে চাঁদাবাজি ও মাসোহারার বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি ওই সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠে। পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় শামীম ওই সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। ঘটনার অডিও ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া গত ৩ ডিসেম্বর কসবা থেকে দেবিদ্বার যাওয়ার পথে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি নাম্বারবিহীন গাড়ি মিরপুর হাইওয়ে থানার সামনে আটক করা হলে পরবর্তীতে থানার সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর ১৫ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ব্রাহ্মণপাড়া থানায় সশরীরে হাজির হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। স্থানীয়দের দাবি, আগেও একাধিক সাংবাদিককে একই কায়দায় হুমকি দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী, পরিবহন শ্রমিক, চালক ও মালিকদের যৌথ দাবি—অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কুমিল্লা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ককে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ মাটি কাটাসহ সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা সব ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যথায় আইনসম্মত কর্মসূচির মাধ্যমে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..