শ্রীনগরে আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে গাছ কাটা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ!
মেহেদী সুমন
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি গ্রামে আদালতের স্থিতাবস্থা (Statusquo) বজায় রাখার নির্দেশ অমান্য করে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ, গাছ কাটা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ শাহজাহান মাদবর (৬৮) বাদী হয়ে শনিবার (৪ এপ্রিল) শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দোগাছি মৌজার সি.এস-১৮৯ ও আর.এস-১১০ নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত সি. এস/এস. এ ১৪৩ নং দাগের আর.এস ৩৫৮ নং দাগের পৈত্রিক ও খরিদ সূত্রে মালিকানাধীন ৫৬ শতাংশ জমি নিয়ে মো. শাহজাহান মাদবরের সাথে তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে জসিম উদ্দিন অপুর (৫৫) গংদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এই সম্পত্তি নিয়ে বিবাদী মো. জসিম উদ্দিন অপু গং শ্রীনগর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, মুন্সীগঞ্জ এ একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। যাহার দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-২০৬/২০২৩।
মামলাটি চলমান অবস্থায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালত বিরোধপূর্ণ ওই সম্পত্তিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
অর্থাৎ এই আদেশের বলে আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জমির বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন বা কোনো প্রকার ক্ষতি সাধন, স্হাপনা নির্মান ও গাছপালা কাটাসহ সকল ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান মাদবর অভিযোগ করেন, গত ৪ এপ্রিল শনিবার সকাল আনুমানিক ১০:৫০ ঘটিকার সময় মো. জসিম উদ্দিন অপু আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশ অমান্য করে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন লোক নিয়ে জোরপূর্বক ওই জমিতে প্রবেশ করেন এবং গাছপালা কাটতে শুরু করেন। খবর পেয়ে মো. শাহজাহান মাদবর বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
অভিযোগ পেয়ে গত ৪ এপ্রিল শনিবার সরেজমিনে ঘটনাস্হলে যেয়ে বিরোধপূর্ন জায়গার বড়ই গাছের ডালপালা কাটা অবস্হায় নিচে ফালানো দেখতে পাওয়া যায়।
অভিযোগের বাদী মো.শাহজাহান মাদবর বলেন, “আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও তারা জোর করে আমার সম্পত্তিতে ঢুকে দখল করার উদ্দেশ্যে গাছপালা কাটা শুরু করছে। আমি খবর পেয়ে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আমাকে দেখে নেওয়াসহ মেরেফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করছি।” এ বিষয়ে আইনগত সহযোগিতা চেয়ে শ্রীনগর থানাকে অবগত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
তিনি আরও বলেন, মো. জসিম উদ্দিন অপু গং মুলত ১৩.৫০ শতাংশের মালিক হওয়া সত্বেও অতিরিক্ত জায়গা দখল করে আছেন। আমরা বারবার জায়গা ছাড়ার জন্য তাগিদ দেওয়ার পরও দখলকৃত জমি না ছেড়ে উলটো আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন অপু বলেন, আমি বাড়ির উঠোনের একটি বড়ই গাছের কয়েকটি ডালপালা কেটেছি তবে কাউকে প্রাননাশের হুমকি দেওয়ার কোন ঘটনা ঘটে নাই। আমাদের যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে তা আমার দাদার আমলের পৈতৃক সম্পত্তি। সে সময় মৌখিক ভাবে কিছু সম্পত্তি আমার দাদা দান করে দিয়ে যান। সেই সময় থেকেই আমার বাবার এই সম্পত্তিগুলো আমরা ভোগ দখলে আছি। যা এলাকার অনেকেই এই বিষয়ে জানেন। তবে কোন লিখিত না থাকাতে এতো বছর পর এই সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ শুরু হলে বর্তমানে আদালতে মামলা চলছে। আশা করি আগামী ধার্য তারিখে আমাদের পক্ষেই আদালত থেকে রায় পবো।
এ বিষয়ে তদন্তকারী অফিসার এস আই মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনা স্হলে গিয়ে দেখেছি একটি গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। এই বিষয়ে আমি উভয় পক্ষকে শান্ত থেকে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা না করার জন্য নির্দেশ দেই। তার সাথে উভয় পক্ষকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য নির্দেশনা দিয়ে আসি।