অতিরিক্ত জনবল আর অযোগ্য শিক্ষকে প্রশ্নবিদ্ধ খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
বরুণ কান্তি মন্ডল
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
২০শে এপ্রিল ২০২৬ সোমবার ।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নানা অনিয়ম,দুর্নীতি ও অযোগ্য জনবল নিয়োগের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮/১৯ইং শিক্ষাবর্ষে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে ওঠেনি। ভাড়া ভবনে চলছে পাঠদান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এখানে প্রতি বছর ৫টি অনুষদে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বছর শেষে উপস্থিত থাকে মাত্র ১০০ থেকে ১২০ জন। অথচ এই স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১০৭ জন, কর্মকর্তা রয়েছেন ৮১ জন এবং কর্মচারী ২২০ জন। সব মিলিয়ে ১২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট জনবল দাঁড়িয়েছে ৪২১ জন, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে,
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য শহিদুর রহমান খান এর সময়ে প্রায় ৪২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, যার অধিকাংশই দলীয় বিবেচনায় ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। একটি পদে নিয়োগ পেতে ২৫-৩০ লাখ টাকা এবং স্বামী-স্ত্রী একসাথে চাকরি পেতে ৬০-৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
প্রথম ধাপে ৫ জন সহকারী অধ্যাপকসহ ৭৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।
এদের মধ্যে ড.তসলিম হোসেন, আব্দুল হান্নান,আফিকুল আলম ও আইনুল-এর মতো কয়েকজনের বিরুদ্ধে ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট করে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার এবং ছাত্রদের উপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে এসব নিয়োগ প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করা হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমান উপাচার্য ড. মো. নাজমুল আহসান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপির কাজ চলমান রয়েছে এবং পূর্বের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে অতিরিক্ত জনবল এবং অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের এই চিত্র শুধু আর্থিক অপচয়ই নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও একটি উদ্বেগজনক।
সচেতন মহলের দাবি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুতই শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।