সিদ্ধিরগঞ্জে ৯১০০ লিটার অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার, মজুতদাররা রাষ্ট্রের শত্রু : ডিসি রায়হান কবির
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ :
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবিরের নির্দেশনায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার সকল উপজেলায় অব্যাহত মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জেলার সকল ফিলিং স্টেশনে সরকারের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে
এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে এবং একজনকে ২ মাসের কারাদণ্ডও প্রদান করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় গোদনাইল এলাকায় মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপোর পাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবিরের নির্দেশনায় এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান।
এতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ও পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
সহকারী কমিশনার রাশেদ খান বলেন, গোদনাইলে মেঘনা ডিপোর পাশে ওই অভিযানে ৯১০০ লিটার জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ হিসেবে পাওয়া যায়। পরে সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তেল মজুদে জড়িত মো. সিফাত নামে একজনকে ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
একইসঙ্গে অবৈধ তেল মজুদের অপরাধে তাকে ৬ হাজার টাকা জরিমানার কথাও জানান এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযান প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো:রায়হান কবির সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে এবং এই পর্যন্ত অবৈধভাবে মজুদকৃত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে জেলা প্রশাসন। অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসা করছে, তারা ব্যবসায়ী নয়—অপরাধী। তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। এ পর্যন্ত প্রায় ১০টি জাহাজ এসেছে এবং গতকাল সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ রওনা হয়েছে, যাতে প্রায় ৩০০ টন ডিজেল রয়েছে। গত দুই দিনেও আরও দুটি জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়েছে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করুন। কেউ অতিরিক্ত মজুত করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসন জানায়, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।