শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

মানবিক ডিসির নির্দেশে মীর জুমলা সড়ক দখলমুক্ত হয়েও আবার দখলের পথে। দ্রুত ডিসির হস্তক্ষেপ কামনা।

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫
  • ২২ বার পঠিত

মানবিক ডিসির নির্দেশে মীর জুমলা সড়ক দখলমুক্ত হয়েও আবার দখলের পথে। দ্রুত ডিসির হস্তক্ষেপ কামনা।

এসএম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ :

আবারো দখল হতে শুরু করেছে দখল মুক্ত হওয়া শহরের মীর জুমলা সড়ক। টানা উচ্ছেদের পর দখলমুক্ত থাকার কিছুদিন না পেরুতেই আবারো ধীরে ধীরে রাস্তার দোকান বসিয়ে দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আজ শনিবার দুপুর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আবারো মীর জুমলা সড়ক মুক্ত করা হয় যানবাহন চলাচলের জন্য।কিন্তু আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই কিছু অসাধুচক্র ও কুচক্রীমল আবার দখলের পায়তারা শুরু করে। তাই তাদেরকে কঠোর নির্দেশনার মাধ্যমে রাখতে হবে যাতে করে এই সড়কটি দখল করতে সাহস না হয় কারো। মানবিক ডিসি মোঃ জাহিদুল ইসলাম নিয়ার নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি কুচক্রী মহল এই সড়কটি দখলের পায়তারা করে যাচ্ছে। তাই জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ সহ কঠিন শাস্তির কামনা করছেন শহরবাসী । যাতে পুনরায় মীর জুমলা সড়কটি দখল করার মতন সাহস না পায়। সড়কটি দখলমুক্ত করায় এই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচলের কারণে যানজট নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। কারণ পোরান কোট রাস্তাটি উন্নয়ন কাজের জন্য বন্ধ অবস্থায় আছে অনেক দিন যাবত। এই রাস্তাটি সচল থাকলে যানজট নিরসনে আরো বিশেষ ভূমিকা রাখত বলে শহরবাসী আশা করেছেন। যানজট নিরসনের কারণে শহরবাসী জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের টানা অভিযানের প্রেক্ষিতে যান চলাচলের জন্য উপযুক্ত হয়ে ছিলো শহরের মীর জুমলা সড়ক। রাস্তার দুপাশে অবৈধ দোকানপাটের কারণে সড়কটির অর্ধেকের বেশি অংশ দখল হয়ে ছিলো। ফলে এই সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন তো দূরের হালকা যানবাহন চলাচল করাও মুশকিল ছিলো। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের টানা কয়েকদিনের যৌথ অভিযানে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং রাস্তা থেকে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়েছিল।

সড়কটিতে ভারী যান চলাচল শুরু হওয়ায় বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই নং রেলগেট এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছিল। কিন্তু সড়ক দখল মুক্ত হওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় আবারো ধীরে ধীরে সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকানপাট গুলো বসতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটি যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি ফাঁকা করা হয়েছিল। কিন্তু আবারো রাস্তার দুপাশে অবৈধ দোকানপাট বসতে শুরু করেছে। রাস্তার এক পাশে আলু রেখে বিক্রি করা হচ্ছে অন্য পাশে সবজি বিক্রেতারা সবজি রেখে বিক্রি করছে। এমনকি ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতারা মুরগি রাখার খাঁচা রাস্তায় রেখে রাস্তা দখল করে দোকান সাজিয়ে বসেছে। এসবের পাশাপাশি আবার ভ্রাম্যমান ভ্যানগাড়িতেও দোকান বসানো হয়েছে। সব মিলিয়ে পুনরায় ধীরে ধীরে দখল হতে চলেছে মীরজুমলা সড়ক।

বাজার করতে আসা বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, এই সড়কটি যদি সম্পূর্ন ফাকা রাখা যেতো তাহলে অনেক ভাল হতো। অন্যান্য সময় দ্বিগুবাবুর বাজারে আসলে এই সড়কে পা ফেলতে ইচ্ছে হতো না। পুরোটা রাস্তা ময়লা আবর্জনার পাশাপাশি র্দুগন্ধ ছড়াতো। হাতে ব্যাগ নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে জুতা, প্যান্ট সহ নোংরা কাদায় মাখামাখি হয়ে যেতো। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এই সড়ক উন্মক্ত থাকায় বেশ স্বস্তিতে বাজার করতে পারছিলাম। কিন্তু আবারো দোকানপাট বসিয়ে দখল করা হচ্ছে। অথচ এই সকল ব্যবসায়ীরা বাজারের নির্ধারিত জায়গা গুলোতেই দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে। কারণ ভেতরে অনেক জায়গা খালি পড়ে আছে যেখানে কোনো দোকান বসে না।

তথ্য মতে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাস গুলো টার্মিনালে প্রবেশ করে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মার্কেট অতিক্রম করে মীরজুমলা সড়ক দিয়ে ঢুকে চারারগোপ দিয়ে ৫নং হয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করতে শুরু করেছিলো। এতে করে বঙ্গবন্ধু সড়কের দুইনং রেল গেইট এলাকায় চাপ কমতে শুরু করে ছিল। পাশাপাশি রমজান মাসের পূর্বে নগরীতে যে পরিমান যানজট বঙ্গবন্ধু সড়কে দেখা যেতো সেটা কমতে শুরু করেছিল। কারণ সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ন দুটি সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেগুলো হলো নগরীর শায়েস্তা খান সড়ক ও সিরাজদৌল্লা সড়ক। মূলত এই দুটি সড়ক দিয়েই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাস গুলো কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে প্রবেশ করতো। সড়ক দুটি বন্ধ থাকায় বঙ্গবন্ধু সড়কের উপর চাপ বেড়ে যায় আর নগরীতে দেখা দেয় অসহনীয় যানজট। মীরজুমলা সড়ক সেই যানজট লাগবে কিছুটা সহায়ক হয়ে স্বস্তি দিতে শুরু করেছিল।

সবশেষ গত ৬ই মার্চ জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মোনাব্বর হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এদিকে সড়কটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দূর দূরান্ত থেকে আগত ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দে এখন দিগুবাবুর বাজার থেকে কেনাকাটা করতে পারছে। একই সঙ্গে যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।

এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন মীর জুমলা সড়কে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়কটি হকার বসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সড়কটি দৃষ্টিনন্দন করতে পরিষ্কার করে চকচকে করা হয়েছিল। খুব শিগগিরই সড়কটির দেয়ালে নানান ছবি আঁকার পাশাপাশি সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তার আগে, এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তামশিদ ইরাম খান বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক মীর জুমলা রোড সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হয়েছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। রোডের দুইপাশে বাঁশ দিয়ে গাড়ি চলাচলের পথ বন্ধ করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্য টিআইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চারুকলা প্রিন্সিপালের সাথে কথা হয়েছে। তারা শহীদ মিনারে কার্যক্রম শেষ করে মীর জুমলা রোড আলপনা করবেন। এতে করে যাত্রী এখানে চলাচল করার সময় এর সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারবেন।

এর আগে, নারায়ণগঞ্জে যোগদান করেই অচল শহর সচল করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয় মীর জুমলা সড়কে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে যান চলাচলের জন্য সড়কটিকে উপযোগী করে তোলা। সেই লক্ষ্যেই কিছুদিন পর পরই সড়কটিতে অভিযান পরিচালনা শুরু করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনও উপস্থিত ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..