মধ্যরাতে সাংবাদিকের বাসায় সন্ত্রাসীদের হামলা, আসামী ধরতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের সাথে বিরিয়ানি খেলেন এস আই মাসুদ।
বিশেষ প্রতিনিধি: শামীম আহমেদ
আশুলিয়ায় তথ্য জানতে চাওয়ায় এবং সংবাদ প্রকাশের জেরে রফিক নামের এক ভিডিও জার্নালিস্ট এর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর পুনরায় হামলার শিকার হয়েছে ভুক্তভোগী ভিডিও জার্নালিস্ট রফিক।
সাভার আশুলিয়ার নরসিংহপুর হামিম গ্রুপ এর ২ নং গেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
বুধবার আনুমানিক রাত ১০ টার দিকে হামিমের দুই নং গেট সংলগ্ন চায়ের দোকানদার হোসেন আলীর পুত্র সন্ত্রাসী সবুজ দৈনিক স্বাধীন সংবাদের ক্যামেরা পার্সনের দায়িত্বে থাকা রফিককে সংবাদ দেয়।
যে তাদের মার্কেটের সিকিউরিটি গার্ড আমিনুল ইসলামের নাবালিকা মেয়ের বিয়ে হচ্ছে যার বয়স ১২/১৩ বছর।
এবং তাকে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে বলে সেই সাথে অন্যান্য সংবাদকর্মীদেরকে খবর দিতে বলে।
পরবর্তীতে সন্ত্রাসী সবুজ রফিক কে তার বাইকে করে সিকিউরিটি গার্ড আমিনুলের বাসায় নিয়ে যায়। এবং খবর পেয়ে আরো কয়েকজন সংবাদ কর্মী সেখানে চলে আসেন।
ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর দেখা যায় আমিনুল তার নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। আশুলিয়ার হাউজিং মার্কেটের কাজী আউয়াল সেই বিয়ের পড়াচ্ছেন।
তথ্য আছে এই কাজী আওয়াল অর্থের বিনিময়ে প্রতিনিয়ত এরকম অবৈধ বিয়ে পড়িয়ে থাকেন। জানা গেছে চেতনা মাল্টিপারপাস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত থেকে গ্রাহকদের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে, এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্লট ও বাড়ির মালিক এই প্রতারক কাজী আউয়াল।
সংবাদ কর্মীরা কাজী কে নাবালিকার বিয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে, কাজী একটি জন্ম সনদ দেখিয়ে বলে মেয়ের বয়স ১৮ হয়েছে।
এইজন্য আমি বিয়ে পড়িয়েছি, আপনি জন্ম সনদটি অনলাইনে চেক করেছেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে কাজী কোন সদ উত্তর দিতে না পারলে উপস্থিত সংবাদ কর্মীরা জন্ম সনদের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, জন্ম সনদটি ভুয়া। জন্ম সনদের বিষয়ে অনুসন্ধান করলে পার্শ্ববর্তী একটি ফটোকপির দোকানের ভয়াবহ জালিয়াতির তথ্যও সামনে আসে। সেই দোকানের মালিক বিভিন্ন সময়ে নাবালিকার বিয়ের জন্য এই ধরনের ভুয়া জন্ম সনদ তৈরি করে দেয় বলে জানা যায়।
আপনি জন্ম সনদ যাচাই না করে ১২ বছরের একটা মেয়ের বিয়ে কিভাবে পড়ালেন এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে। কাজী তখন বিয়ের কথা অস্বীকার করে এবং তার বই তার ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে, এরপর সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
অপরদিকে এই ঘটনা সূত্র ধরে সন্ত্রাসী সবুজ মেয়ের বাবা সিকিউরিটি গার্ড আমিনুলকে চাপ দিতে থাকেন। যে সাংবাদিকরা তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছে এই টাকা না দিলে তার বড় ধরনের সমস্যা হবে। এরপর সিকিউরিটি গার্ড আমিনুল সন্ত্রাসী সবুজের হাতে ১৬০০০ টাকা বুঝিয়ে দিয়ে তাকে অনুরোধ করে, এই ১৬ হাজার টাকার মধ্যেই দফা রফা করতে তার কাছে আর টাকা নেই। কিন্তু প্রতারক সন্ত্রাসী সবুজ তাকে আরো বেশি করে চাপ দিতে থাকে দ্রুত টাকার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য। যার কারনে সিকিউরিটি গার আমিনুল প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে কোন কিছুর যাচাই-বাছাই না করে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। সে ওই সময় ভিডিও জার্নালিস্ট রফিকের সাথে খারাপ আচরণ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে।
এরপর আমিনুলের কাছ থেকে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি ভিডিও জার্নালিস্ট রফিকসহ অন্যান্য সংবাদকর্মীরা জানতে পারলে তারা সবুজকে প্রশ্ন করে আপনি আমাদেরকে তথ্য দিয়ে ডেকে নিয়ে আসলেন। আবার আপনি আমাদের নাম ভাঙ্গিয়ে সিকিউরিটি গার্ড কে ভয় ভীতি দেখিয়ে টাকা চাচ্ছেন। অথচ আমরা জানিই না, আপনি এই কাজটা কেন করলেন ?
এতে হঠাৎ করে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় সবুজ, সে গায়ে হাত উঠায়, তার ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে, তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে সেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।
এরপর দিন সকাল দশটার দিকে সন্ত্রাসী সবুজ পুনরায় রফিককে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
উক্ত ঘটনায় ভিডিও জার্নালিস্ট রফিক আশুলিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে। একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের দায়িত্ব আশুলিয়া থানার উপরিদর্শক মাসুদ (২) কে দেয়া হয়, অভিযোগের বিষয়ে আইনি সহায়তার জন্য এস আই মাসুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, মাসুদ ঢাকায় আছে বলে জানান।
তিনি রাত আটটার সময় ডিউটিতে জয়েন করবেন, এবং ওই সময় তার অভিযোগের তদন্তে যাবেন বলেও জানান।
এরপর যখন রাত আটটা বেজে যায় তখন ভুক্তভোগী রফিক তার অভিযোগের আয়ূ এস আই মাসুদকে ফোন করলে মাসুদ তাকে জানায়, যে আমরা ৯ টার দিকে আসতেছি অপেক্ষা করেন। এরপর রাত ৯ টা পার হয়ে যাওয়ার পর যখন এস আই মাসুদ ঘটনাস্থলে আসেনি আসেনি তখন তাকে আবারো ফোন করে।
জানতে চাওয়া হয় ভাইয়া আপনি কখন আসবেন ? এইভাবে দফায় দফায় কয়েকবার সময় দিয়ে এস আই মাসুদ ঘটনাস্থলে আসেনি, আর প্রতিবার এস আই মাসুদের দেওয়া সময়ের কারণেই সংবাদকর্মীরা তাকে ফোন দিচ্ছিল, তার ফোনে বারবার ফোন দেয়ার কারণে সেই সংবাদ কর্মীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এবং তাদের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে।
এরপর রাত আনুমানিক দশটার দিকে এসআই মাসুদ আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় তারপর সহ উপস্থিত হয়ে সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলেন, তিনি বলেন আপনার অপেক্ষা করেন আমি দশ মিনিটের মধ্যে আসতেছি৷ এই কথা বলে সে, অন্য আরেকটি অভিযোগের তদন্তে চলে যায়। এরপর থেকে এসআই মাসুদ সংবাদ কর্মীদের ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেয়। অপেক্ষা করতে করতে যখন রাত বারোটা বেজে যায় তখন সবাই যার যার বাসায় চলে যায়।
রাত আনুমানিক একটার দিকে ভিডিও জার্নালিস্ট রফিক যখন তার পরিবার নিয়ে তার ভাড়া বাসার কক্ষে ঘুমাচ্ছিল, তখনই মাঝরাতে হঠাৎ করে দরজায় ধাক্কা দেয়ার বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় রফিক ও তার স্ত্রীর, দীর্ঘ সময় ধাক্কাধাক্কি আর চিল্লাচিল্লির কারণে রফিক দরজা খুলে দেয়, দরজা খোলার সাথে সাথেই রফিকের উপরে অতর্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসী সবুজ ও তার বাহিনী। এ সময় সন্ত্রাসী সবুজ বাহিনী তার ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং রফিককে তুলে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে।
এই সংবাদ পেয়ে সাংবাদিক বাবু এস আই মাসুদ কে ফোন করে এইবার এস আই মাসুদ ফোন রিসিভ করেন, এস আই মাসুদকে অপহরণের বিষয়টি জানানো হলে তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যায়। প্রশ্ন থেকে যায় এস আই মাসুদ কি তাহলে ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ছিল ? কেনইবা এস আই মাসুদ ঘন্টার পর ঘন্টা তালবাহানা করে রফিকের অভিযোগের তদন্তে যায়নি ? কেনইবা ১০ মিনিটের কথা বলে রাত বারোটা বেজে গেলেও এস আই মাসুদ কারো ফোন রিসিভ করেননি ? আর কেনইবা রফিকের উপর পুনরায় হামলার পর অবস্থা গুরুতর শুনে সেখানে পৌঁছতে এস আই মাসুদের দেরি হলো না ?
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর এস আই মাসুদ সন্ত্রাসী সবুজ ও তার বাহিনীকে সেখানে উপস্থিত অবস্থায় দেখতে পায়, পুলিশের সামনেই চলতে থাকে হুমকি-ধমকি। ভিডিও জার্নালিস্ট রফিক অসহায়ের মতো যখন পুলিশের কাছে সাহায্য চাচ্ছিল তখন পুলিশ রফিককে সবুজের সাথে বিষয়টি আপস করে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলো।
ওই সময় এস আই মাসুদ বলেন, আগামীকাল সবাইকে থানায় ডাকবো নিজেদের মধ্যে আপোষ করে নিয়েন। রফিক তখন এস আই মাসুদকে জানায়, ভাইয়া আমি হামলার শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ করেছিলাম আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে আমাদেরকে ঘুরাইলেন এখানে আসলেন না, তখন তো আপোষ করার কথা বললেন না। মাঝরাতে আমার ঘরে ঢুকে আমার উপরে হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা এবং ঘটনাস্থলে আপনি উপস্থিত আছেন আপনার সামনে সন্ত্রাসীরা উপস্থিত আছে আপনি তাদেরকে গ্রেফতার না করে উল্টো তাদের সাথে খোশগল্প করছেন ? আবার আমাকে আপোসের জন্য চাপ দিচ্ছেন ? এই কথা বলার কারনে রফিক কে ধমক দিয়ে চুপ থাকতে বলেন এসআই মাসুদ ।
এরপর ঘটনাস্থলে অন্যান্য সংবাদকর্মীরা চলে আসতেছে এটা জানতে পেরে ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসী সবুজকে সরে যেতে বলেন এস আই মাসুদ।