বরগুনায় সংসদীয় ৩টি আসন পুনর্বহালের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান
মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব বরগুনা থেকে,
বরগুনার সাবেক ৩টি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ঢাকাস্থ বরগুনা জেলা সমিতি।
দাবি আদায়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এন এম নাসির উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
এসময়ে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বরগুনায় আগে তিনটি সংসদীয় আসন ছিল। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি বাদ দিয়ে দুটি সংসদীয় আসন করেন, ২০০৮ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের গেজেটে উল্লেখ আছে, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক সুবিধার বিবেচনায় বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসন বিলুপ্তির কোনো যুক্তি নেই; কিন্তু সেনাশাষিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন ওই গেজেট অনুসরণ না করে বরগুনা-৩ আসন বিলুপ্তি করেছে। প্রমত্তা পায়রা ও বিশখালী দুটি নদী ঘিরে রেখেছে বরগুনার জেলার সংসদীয় আসন।
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপকূলীয় জেলার নাম বরগুনা। ১৯৮৪ সালে আমতলী, বরগুনা সদর, বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী নিয়ে বরগুনা জেলায় উন্নীত হয়। ২০১০ সালের ৬ মে আমতলী উপজেলা থেকে বিভক্ত হয়ে তালতলী উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। পায়রা নদীর পূর্ব পাড়ে আমতলী ও তালতলী উপজেলা।
স্বাধীনতার পর থেকে বরগুনা জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন ছিল। তৎকালীন সরকার বাহাদুর প্রমত্তা পায়রা ও বিশখালী নদীর ওপর ভিত্তি করে বরগুনা জেলাকে তিনটি সংসদীয় আসনে বিভক্ত করেন। বরগুনা সদর ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-১ আসন, পাথরঘাটা ও বামনা নিয়ে বরগুনা-২ আসন এবং আমতলী ও তালতলী নিয়ে বরগুনা-৩ আসন।
সমবণ্টনের মাধ্যমে চলছিল তিনটি সংসদীয় আসনের উন্নয়ন। কিন্তু ২০০৮ সালে সেনা শাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সরেজমিন পরিদর্শন না করেই আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিতে কাল্পনিকভাবে বরগুনা জেলার তিনটি সংসদীয় আসনকে ভেঙে দুটি সংসদীয় আসনে বিন্যাস্ত করেন।
বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-১ আসন এবং পাথরঘাটা, বেতাগী ও বামনা উপজেলা নিয়ে বরগুনা-২ আসন। এতে উন্নয়ন বঞ্চিত হয়ে পরে সর্ব দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চল আমতলী-তালতলী উপজেলা।
আমতলী-তালতলী উপজেলা বাংলাদেশের দক্ষিণের শেষ প্রান্তের সাগর পাড়ের উপকূলীয় উপজেলা। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গেই যুদ্ধ করে উপকূলের মানুষের বেঁচে থাকতে হয়। এ জনপথের অবহেলিত মানুষের দুঃখ দুর্দশা বোঝার মতো জনপ্রতিনিধি নেই। তালতলী উপজেলায় রয়েছে আদিবাসী রাখাইন ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বসবাস। এ উপজেলার উৎপাদিত তাঁতশিল্প তথা হস্ত শিল্প, মাছ ও ধান জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে; কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হয়।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সাবেক বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসন বিলুপ্ত করায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক সুবিধার জন্য সাবেক বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসন পুনর্বহালের জোর দাবি জানাই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বরগুনা জেলা সমিতির সভাপতি মোঃ জিয়াউল কবির দুলু, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ মল্লিক, উপদেষ্টা ডা. সুলতান আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবুল হাশেম, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক সিনিয়র জেলা জজ মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন।