শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন

প্রকাশিত সংবাদ এর প্রতিবাদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫
  • ১৯ বার পঠিত

প্রকাশিত সংবাদ এর প্রতিবাদ
গত ২১ মার্চ শুক্রবার রাত ৮-১৮ মিনিটে আপন দেশ (https://www.dailyapandesh.com/) অনলাইনে “জামালপুর জনস্বাস্থ্যের কোটিপতি অফিস সহকারী হোয়াইট বাবু ছায়া নির্বাহী!” শিরোনামে বিভিন্ন অনলাইন /স্থানীয়/জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে । উক্ত সংবাদটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামালপুর জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান সহকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির বাবু। তিনি এক প্রতিবাদ লিপিতে জানান , দীর্ঘদিন ধরে একটি কু চক্রি মহল মানষিক, সমাজ ও পারিবারিক এবং দাপ্তরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য নানা পায়তারা কর আসছে । যার প্রেক্ষিতে মিথ্যা ও ভুয়া এবং কাল্পনিকভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচার কর স্বনাম নষ্ট করতেছে ।
সংবাদে বলা হয়েছে , জামালপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের গাড়ি চালক ছিলেন তার বাবা আব্দুল হালিম। তাই জন্মস্থান ও বেড়ে উঠা অধিদফতরের কোয়ার্টারেই। কোটার জমানায় বাবার কোটায় অফিস সহকারীর চারকিটা পেয়েছেন তিনি। চাকরি শুরু ২০১৫ সালের ১মার্চে। কালের আবর্তে তিনি এখন প্রধান অফিস সহকারী। ১৩তম গ্রেডের কর্মচারী হলেও এ অধিদফতরের ইটপাটকেল থেকে ঠিকাদার সবাই জানে তিনিই ‘ছায়া নির্বাহী প্রকৌশলী’। কারণ এ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদের আলো-অন্ধকারের সুকর্ম-কুকর্মের রাজসাক্ষী তিনিই। কখনো ঘটনার সহযোগি, কখনো অঘটনের উপাদান সরবরাহকারী আবার কখনো দুয়েমিলে করেছেন কু-কর্মগুলো। ফলে তার কব্জাতেই অফিসের প্রধান কর্তাটি। বদৌলতে বাস করছেন বড়স্যারের জন্য বরাদ্দকৃত বাড়িতে, চাষ করছেন সরকারি পুকুর। কর্মস্থল আর নিয়ন্ত্রণ অফিসে প্রায় একযুগ থাকায় আধিপত্যটাও গড়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য। সব মিলিয়ে হাজারের অঙ্কে বেতন পাওয়া ছাপোষা ড্রাইভারের ছেলে এখন কোটিপতিবনে গেছেন। নাম জাহাঙ্গীর কবির বাবু। কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হয়ে পুরোদেহ সাদা হওয়ায় তাকে কেউ চিনেন ‘সাদা বাবু’ নামে আবার কেউ ডাকেন ‘হোয়াইট বাবু’। মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির বাবু ওরফে সাদাবাবুর দুর্নীতি অনিয়ম, কমিশন বানিজ্য, নিয়োগ তদবির ও পার্টনারে ঠিকাদারিসহ নানা অপকর্ম করে তিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। দুদকের জাল ভেদ করতে নামে বেনামে জমি, বাড়ি, ব্যবসা বানিজ্যসহ বিপুল অর্থ সম্পদ গড়ে তুলছেন তিনি। তার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদের হিসাব সম্পদের বেশকটি ব্যাংকে খতিয়ে দেখলেই প্রমাণ মিলবে। সংবাদে আরো বলা হয় , পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি কর্মচারি হয়েও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনি। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারহান আহমেদের ভোজনবন্ধু পরিচয়ে প্রভাব, ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণ, অনিয়ম, দুর্নীতির কাজে বিশ্বস্ত সহযোগীতা, বিশেষ চাহিদার বস্তু সাপ্লাই দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদের প্রিয়পাত্র হয়ে জনস্বাস্থ্য অফিসে দুর্দান্ত প্রভাব গড়ে তুলেন। নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কার্যসাধনে মেশিন অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর কবির হোয়াইট বাবু । তার ইশারা ছাড়া জনস্বাস্থ্যের অফিস আঙ্গিনায় একটি কর্মও সাধিত হয়না। তার আঙ্গুলের হেলনিতে চলে জনস্বাস্থ্যের অফিসিয়াল কার্যক্রম। ঠিকাদারী কাজ বন্টন, পার্সেন্টেন্স ঠিক করা, টেন্ডার ও কাজ বরাদ্দের মত ঠিকাদারদের ভাগ্য নির্ধারিত হয় অফিস সহকারী বাবুর হাত ধরে। যে কারণে নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস রুমের চেয়ে বাবুর টেবিলের চারপাশ জুড়ে বসে থাকে ঠিকাদাররা। বিজ্ঞপ্তিবিহীন কাজটি কতো পার্সেন্ট কমিশনে কাকে দিবেন, কার কাছে কাজ বিক্রি করবেন ঠিকাদার, ঠিকাদারি নয়া লাইসেন্স করা, নবায়ন, বাতিল, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশিক্ষণার্থীর তালিকা তৈরি নানা কাজের সুলতানি দায়িত্ব সম্পন্ন হয় হোয়াইট বাবুর কলমের খোচায়। তার কলমের প্রতি খোঁচার রেট হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা।
মুলত বিষয় হলো ,আমি একজন সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। পারিবারিক ভাবে আমি আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। আমি অধিদপ্তরে নিষ্ঠার সাথে কাজ করতেছি বিধায় অনেকে হিংসাত্মক ভাবে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করে এবং নানা সময়ে বিভিন্ন হুমকির সম্মখ্খিন হই। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যক্তিরা আমার ক্ষতি সাধন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমার বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পত্রিকাটিকে বিষয়টি আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা উচিত ছিলো বলে আমি মনে করছি।আমি কখনো কোন দুর্নীতি কিংবা অনিয়ম করি নাই। আমার যে দায়িত্ব সেগুলো আমি সঠিকভাবে পরিচালনা করে আসছি। সম্পুর্ন সংবাদে যে অভিযোগ গুলো আনা হয়েছে এগুলা সম্পুর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট। এই সংবাদ গুলোর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক, মানষিক ও দাফতরিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। বোষপাড়া এলাকায় জনস্বাস্থ্যূ প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভান্ডার এলাকায় পুরাতন বাংলোতে আমার বিষয়ে যে গুজব ছড়িয়ে, তা বাস্তবে কোন সত্যতা নেই, আমি ভান্ডার রক্ষক হিসাবে দায়িত্ব থাকায় আমার দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে আমি সেখানে অস্থায়ী ভাবে অবস্থান করি। এছাড়া যে সকল লোক অধিদপ্তর হতে অনৈতিক সুবিধা নিতে পারে নাই, তারাই বিভিন্ন ভাবে আমাকে বদলীর হুমকি দেয়, বিভিন্ন ভাবে আমাকে মানসিক চাপে রাখে। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় এ মিথ্যা সংবাদের অবতারণা করা হয়েছে শুধু আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি আমার ক্ষতি সাধন করার জন্য।
সংবাদে আরো বলা হয়েছে , নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ ২০২০ সালে যোগদান করার পর থেকে স্বল্পমূল্যে র প্রায় এক হাজারটি লেট্টিন বিনা টেন্ডারের, বিনা নোটিশে, বিনা বিজ্ঞাপনে মনোনীত কিছু ঠিকাদারকে শতকরা ১০ ভাগ উর্ধমূল্যে কাজ দেয়া হয়। এ কাজপ্রতি ১ হাজার টাকা উৎকোচ নিতেন তারা। অধিদফতরের প্রত্যেকটি কাজের জন্য ঠিকাদার থেকে সুলতান মাহমুদের বেধে দেয়া কমিশনের চেয়ে অধিক গ্রহণ করতেন হোয়াইট বাবু। তবে এখানে সুলতান মাহমুদ নীরব থাকতেন। কারণ সুলতান মাহমুদ স্পর্শকাতর বিষয়ে বাবুর কাছে ধরা।জুলাইবিপ্লবের আগে হোয়াইট বাবুদের শেল্টার দিতেন, কাজ নিতেন, নারী কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতেন আওয়ামী লীগের নেতারা। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পলানোর এখন ছায়া দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত ও কথিত সমন্বয়করা। সুবিধাও নিচ্ছেন তথৈবচ। গাছের আগাটার মতো শেকড়েরটাও হাতছাড়া করতে নারাজ অফিস সহকারী বাবু। বর্তমানে জনস্বাস্থ্য অফিসের পুকুরে মাছ চাষের করেন তিনি। সরকারি পুকুর লিজ দেয়ার নিয়ম থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ তার প্রিয়সহকর্মী বাবুকে গিফট করেছেন। রাষ্ট্রীয় নীতির তোয়াক্কা না করে মাছ চাষ করছেন বাবু। মাছ চাষের আয় সরকারি কোষাগারে জমা না পড়ে ঢুকছে বাবুর পকেটে। পুকুরে মাছ চাষ নিয়ে বিগত সরকারের আমলে শহর ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম এলিটের হাতে চড়থাপ্পরও খেয়েছিলেন সাদাবাবু। প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ অফিসচলাকালে অধিক সময় থাকেন অফিসের উপরের খাস কামরায়। আবার কখনো অফিসের বাইরে। ঠিকাদার, নেতা, সংবাদকর্মী বা অন্য কোন লোকজন সুলতানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে নিচে এ হোয়াইট বাবুর কাছে ধরনা দিতে হয়-হতো। আর হোয়াইট বাবু নির্বাহী প্রকৌশলীর শিখানো বুলি ছুঁড়েন। কমিশনের চুক্তিসহ সমাধান দিয়ে বিদায় করেন আগতদের। জনস্বাস্থ্যের স্বল্পমুল্যে স্যানিটেশন প্রকল্পে মাঠ জরিপের কাজের দায়িত্বেও ছিলেন বাবু। বাড়ি বাড়ি জরিপের কাজে বেকার যুবতী লোভ লালসার ফাঁদে ফেলে সর্বনাশ করার অভিযোগ করেছেন বাবু গংরা। আপন দেশ-এর কাছে এমন তথ্য জানাতেই কেঁদে ফেলেন ভুক্তভোগী জনৈক নারী। চাকরি দেয়ার টোপে ফেলেও অসহায় মেয়েদের সর্বনাশ করারও অসংখ্য অভিযোগ তথ্য অনুসন্ধান করে পাওয়া গেছে অফিস সহকারী বাবুর নামে। নারী কেলেংকারীর ঘটনা ধাপাচাপা দিতেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাদের দিয়ে। বাবুর নারী কেলেংকারীর ঘটনা জনস্বাস্থ্য অফিস এলাকা, ঠিকাদার ও স্থানীয়দের মুখে মুখে। মুলত বিষয় হলো, অফিসে তদবীর করার কারণে অন্যায় কাজ না করার কারণে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের কিছু নেতারা আমার ওপর হামলা করেছিল। সংবাদে ভিন্ন ভাবে বলা হয়েছে। আমার নামে কোন দিন কখনো কোন নারী কেলেংকারী ঘটনা নাই। আমি স্ত্রী সন্তান নিয়ে সুখে আছি। আমি কখনো কোন রাজনীতিতে যুক্ত ছিলাম না। আমি তাবলীগ করি। স্যারের সাথে যারা দেখা করতে আসে তারা সরাসরি স্যারের কার্যালয়ে গিয়ে স্যারের সাথে কথা বলে। একটি কু চক্র মহল সমাজে আমাদের হেয় পতিপন্ন করার জন্য সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের জড়িয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত । আমি এই নিউজের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি । জামালপুর কার্যালয়ের সুযোগ্য নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মো: সুলতান মাহমুদ স্যার মহোদয় অত্যন্ত ভাল একজন মানুষ। আমি উনার সহিত তিন বছর যাবত অফিসে কাজ করে আসতেছি, উনার মধ্যে কোন প্রকার দুর্নিতি নেই, উনার কাজের ভিতর স্বচ্ছতা আছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয় বিগত তিন বছরে অত্র দপ্তরে কোন প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ড এর সহিত জড়িত ছিলেন না। উনি অত্যন্ত সহজ সরল মানুষ। তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সাথে কার করে অধিদপ্তরের ভাবমুর্তি সমুন্বত রেখেছেন। এমতাবস্থায় প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি এবং আমি উক্ত সংবাদ গুলোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মো: জাহাঙ্গীর কবীর বাবু

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..