পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে ০৯ বছরের মাদ্রাসা পড়ুয়া অপহৃত শিশু হোসেনকে উদ্ধার সহ ০১ জন অপহরণকারী গ্রেফতার
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ :
১৯ মার্চ ২০২৬ খ্রি. বিকাল অনুমান ০৪.১৫ ঘটিকার সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার চাঁনপুর গ্রামের জনৈক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ভূইয়া (৪৭) এর মাদ্রাসা পড়ুয়া ০৯ বছরের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন এলাকার অন্যান্য ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করার জন্য বাড়ি হতে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে মোহাম্মদ হোসেন বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে। কিন্তু কোথাও কোনো সন্ধান পায় না। রাত আনুমানিক ০৯.৩০ ঘটিকায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মোবাইল নম্বর হতে মোহাম্মদ মোশারফের পরিচিত মোঃ হৃদয় এর ব্যবহৃত মোবাইলে কল করে জানায় যে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার ছেলেকে অপহরণ করে আটক করে রেখেছে। তারা তার ছেলের মুক্তিপণ হিসাবে ১০,০০,০০০/-(দশ লক্ষ) টাকা দাবি করে এবং জানায় যে, যদি তাদের দাবীকৃত টাকা না দেয় তাহলে তার ছেলেকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে। পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা আসামিরা পুনরায় ভিকটিমের বাবাকে ফোন করে তাদের দাবীকৃত টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। উল্লেখ্য যে, ভিকটিম মোহাম্মদ হোসেন মদনপুর হেদায়েতপাড়া জামেয়া রশিদিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।
বিষয়টি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বন্দর থানা পুলিশকে অবহিত করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলী আশরাফ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষদের অবহিত করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী অপহৃত শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মোঃ ইমরান আহম্মেদ এর নেতৃত্বে ০২ টি টিম গঠন করে দেন। পরবর্তীতে এই ০২ টি টিমের চৌকস অফিসারবৃন্দ গতকাল দিবাগত রাত ০৩.৩০ ঘটিকায় আলী হোসেন (১৯) নামে অপহরণকারীকে পটুয়াখালী সদর থানা এলাকার ইসলামপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ বাড়ি হতে গ্রেফতার করে। এসময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ও বিকাশের মাধ্যমে উত্তোলিত নগদ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ আলী হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গত ১৮ মার্চ ২০২৬ খ্রি. হতে বিভিন্ন সময় ভিকটিম মোহাম্মদ হোসেন (০৯) এর বসতবাড়ীর সামনে তারা ঘোরাফেরা করে এবং ভিকটিমের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মার্চ ২০২৬ খ্রি. বিকাল আনুমানিক ৩:৩০ ঘটিকার সময় ঈদের নতুন জামা এবং অন্যান্য কেনাকাটা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমকে অপহরণ করে ডিএমপি’র কদমতলী থানাধীন শ্যামপুরে কমিশনারের গলি এলাকায় আসামির ভাড়াকৃত বাসার রুমে আটক রাখে। আসামি মোঃ আলী হোসেন ভিকটিমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার পূর্ব পরিচিত হৃদয় (২৪), পিতা- জয়নাল আবদিন, মাতা-রাশিদা বেগম, সাং- ললাটি পূর্বপাড়া, থানা-সোনারগাঁও, জেলা-নারায়ণগঞ্জ এর মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে এবং বলে ভিকটিম মোহাম্মদ হোসেন (০৯) তাদের কাছে আছে। উক্ত হৃদয় তাৎক্ষণিক ভিকটিমের পরিবারকে বিষয়টি জানায়। আসামি আলী হোসেন তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর হতে ভিকটিম এর পরিবারের সাথে ইমু নম্বরেও যোগাযোগ করতে থাকে। তারা ভিকটিমের ছবি ও ভিডিও তার পরিবারকে প্রদান করে প্রথমে ১০ লক্ষ টাকা এবং পরবর্তীতে ০৭ লক্ষ টাকা দাবি করে। অন্যথায় ভিকটিমকে ভারতে পাচার করাসহ মেরে ফেলার হুমকি দেয়। যার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের পরিবার আসামির বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রথমে ৫,০০০/- টাকা এবং পরে ১০,০০০/- টাকা প্রদান করে।
গ্রেফতারকৃত আসামি আরও জানায় যে, মোঃ আলী হোসেন ভিকটিমকে ডিএমপি’র কদমতলি থানাধীন শ্যামপুরে কমিশনারের গলি এলাকায় নিজ ভাড়াকৃত বাসায় বাহির হতে তালাবদ্ধ রেখে পলায়ন করে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক পরবর্তীতে বন্দর থানা পুলিশের অপর ০১টি টিম অদ্য ভোর আনুমানিক ০৫:০০ ঘটিকার সময় ঢাকার শ্যামপুরস্থ আসামির ভাড়া বাসা হতে বাড়িওয়ালার চঞ্চল মাহমুদ এর সহায়তায় ভিকটিম মোহাম্মদ হোসেনকে উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানায় ভিকটিমের পিতা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ০১ টি অপহরণ মামলা দায়ের করে। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার এসআই (নিঃ) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।