নারায়ণগঞ্জ বন্দরের লাঙ্গলবন্দে সনাতন ধর্মালম্বীদের পুণ্য স্নানোৎসবে জেলা প্রশাসক মোঃরায়হান কবির এর পরিদর্শন
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ :
নারায়নগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুন্য স্নানোৎসব আজ থেকে লাঙ্গলবন্দে শুরু হলো পাপমুক্তির মহাস্নান। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লা তিথিতে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে সমবেত হন। তাদের বিশ্বাস, শুক্লাঅষ্টমী তিথিতে এ নদীতে স্নানের মাধ্যমে পাপমোচন ঘটে এবং ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।উৎসবকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির এর সাথে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থেকে লাঙ্গলবন্দের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবীর বলেন,পুণ্যার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জন্য সেবাকেন্দ্রে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় হওয়ায় মহাসড়কে চাপ বাড়তে পারে, সে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনপির ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও বলেন, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের একজন এডিসি সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর টিম টহলে থাকবে।স্নানোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে রাখা সহ ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল, মেডিকেল টিম, রোগী পরিবহনের জন্য রিকশা ও ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ২৪টি স্নানঘাট সংস্কার, নদের কচুরিপানা অপসারণ এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য ৪৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নারীদের জন্য পৃথক পোশাক পরিবর্তন কক্ষ ও ২০০টি অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।আশা করি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে স্নান উৎসব পালিত হবে।পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় দুই শিফটে প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করবেন। নৌ পুলিশও মোতায়েন থাকবে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
তিনি আরও জানান, পুরো তিন কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা শংকর কুমার দে জানান, বুধবার বিকাল ৫টা ১৭ মিনিটে স্নান শুরু হয়ছে এবং বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে শেষ হবে। এবার লাঙ্গলবন্দের ২৪টি ঘাটে স্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পৌরাণিক বর্ণনা মতে, ত্রেতা যুগে ব্রাহ্মণ জমদগ্নি ও রেণুকার পুত্র পরশুরাম মাতৃহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে তপস্যা করেন। পরে নির্দেশনা অনুযায়ী চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে এক পবিত্র নদীতে স্নান করে পাপমুক্ত হন। পরবর্তীতে সেই পুণ্যধারা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করতে তিনি লাঙ্গল দিয়ে হিমালয় থেকে সমভূমিতে জলধারা নিয়ে আসেন। বর্তমান নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় এসে তিনি লাঙ্গল চালানো বন্ধ করলে স্থানটির নাম হয় লাঙ্গলবন্দ।নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দিয়েছেন।আশা করি শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখের পরিবেশে উৎসব উদযাপিত হবে।