বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন

চান্দিনায় ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিককে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আটক, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

চান্দিনায় ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিককে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আটক, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

মোঃ মামুনুর রশীদ কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিককে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আটকের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন—দৈনিক মানবজমিনের সাংবাদিক মোঃ রাসেল এবং দৈনিক আমার শহর মোঃ আঃ আল- (আলিম)।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করছিলেন ওই দুই সাংবাদিক। এ সময় তাদের আটক করে হ্যান্ডকাপ পরানো হয়, যা স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ সরকারি কাজে বাধা দিলে দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারা বা আক্রমণাত্মক আচরণ করলে ৩৫৩ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে শুধুমাত্র ভিডিও ধারণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তারের সময় অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা নিষিদ্ধ। পাশাপাশি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, হ্যান্ডকাপ ব্যবহার করা যাবে কেবল তখনই, যখন পালানোর আশঙ্কা বা সহিংসতার ঝুঁকি থাকে।
এ ঘটনায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সাংবাদিকরা অপরাধী হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি নির্দোষ হয়ে থাকেন, তাহলে এ ধরনের আচরণ ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এসিল্যান্ডের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে গোপনে ভিডিও করার কারণে, বিনা অপরাধে চান্দিনা এসিল্যান্ড আমাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক ও হেনস্তা করেন। মোবাইলের ভিডিও ডিলেট করে দেন।

আটককৃত সাংবাদিকগন রিপোর্টার বাংলা টিভি কে বলেন

উল্লেখ্য চান্দিনা উপজেলায় আমার আপন খালাতো বোনের স্বামী জহিরুল ইসলাম তাহার পৈতৃক জমির খারিজ বাতিল করার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু গত এক বছর ধরে বিষয়টি শুনানি মাধ্যমে সমাধান করেননি চান্দিনা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফায়সাল আল নুর। ৩-৪ মাস আগে শুনানি করেও কোন রায় ঘোষণা করেননি তিনি।
এ বিষয়ে তাহার সহকারী আমার খালাতো বোনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও সমাধান লক্ষ্যে পৌঁছায়নি।
যখনি আমার খালাতো বোন তাদের সন্দেহ হয়, সে গত (৩০শে মার্চ সোমবার) আমাকে ফোন দিয়ে তাহার সমস্যার কথাটি জানান। এবং আজ বুধবার আবারো শুনানি হবে বলে আমাকে অবগত ও থাকার জন্য অনুরোধ জানান।
বিষয়টি আমি চান্দিনার দুই সাংবাদিক মোঃ শরিফুল ইসলাম ও আবু সাঈদকে জানাই এবং সহযোগীতা করতে বলি।
তারা উপস্থিত থাকার কথা জানান। আমি আজ বুধবার ১লা এপ্রিল দুপুরে চান্দিনা ভূমি অফিসে আমার সহকর্মী সাংবাদিক রাসেল সরকারকে নিয়ে উপস্থিত হই। সকালবেলা শুনানির কথা থাকলেও চান্দিনা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ফয়সাল -আল- নুর কোন সাড়া দেয়নি।
°সকাল গড়িয়ে দুপুর, এরি মধ্যে আমি এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি পরে আসেন বলে জানান। অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান সময় হলে ডাক পাবেন।
দুপুরের খাবার সময়, ঘড়িতে তখন ১:৫০ মিনিট। আমি দেখলাম এসিল্যান্ড ফ্রি তাহার রুমে কেউ নেই। তখন আমি ভাবছি সরাসরি গিয়ে জিজ্ঞেস করি আমাদের শুনানি কখন করবেন।
°কারণ শুনানি হবে কিনা বা লেট হচ্ছে কেন এ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। কারণ তিনি একাধিক সাধারণ জনগণকে ধমক দিয়ে দুরে সরিয়ে দেন।

এবার আমি এসিল্যান্ডের কক্ষে প্রবেশের আগে আমি আমার ফোনে ভিডিও রেকর্ড চালু করে প্রবেশ করি। প্রবেশের সাথে সাথে এসিল্যান্ড ফয়সাল বলেন পরে আসেন। আমি উত্তরে বললাম স্যার আমরা তিন ঘন্টা হয়েছে এসেছি, দুপুরের খাবার সময় আমাদের শুনানি কখন হবে যদি সময় টা জানাতেন ভালো হত। তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বলেন বের হন আমি বিজি আছি। আমি একটু দাঁড়িয়ে রইলাম, তখন সে আমাকে আরো ধমক দেয়। এবং মোবাইলে ভিডিও করছি বুঝে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। জোর করে আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। আমি সাথে সাথে বারান্দায় সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে অবস্থান নেই। এসিল্যান্ড অফিস থেকে এসে আমাকে হেনস্তা, গালাগালি করে। আমার সহকর্মী রাসেলের মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। এবং আমাকে সন্ত্রাস বলে চান্দিনা থানা পুলিশকে ডেকে এনে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে।

আটকের পর আমার মোবাইলের লক খুলে দিতে পুলিশ ও প্রশাসন চাপ সৃষ্টি করে। আমি উত্তরে বলেছি জেল যাব কিন্তু মোবাইলের লক খুলব না। এ নিয়ে তর্ক বির্তকের পর, ওসি আমাকে বলেন বাড়াবাড়ি না করে চলুন সমাধানে যাই। আমি সমাধানে যাই। সমাধানে যাওয়ার পর এসিল্যান্ড আমার মোবাইলের ভিডিও ডিলেট করে দেন। তারপর ভবিষ্যৎতে যেন বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করি আমাদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা রাখেন।

এরি মধ্যে ঘটনার ছবি, ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে আমার মান-সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে।

আমাকে চান্দিনার এসিল্যান্ড কি পরিমাণ হেনস্তা ও খারাপ ব্যবহার করেছে, আমার মোবাইল ছিনিয়ে নিতে। তাহার অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলে বিস্তারিত বের হয়ে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..