গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন সহ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ায় কঠোর নির্দেশনা মানবিক ডিসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ:
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে ১৬ ই মার্চ রোজ রবিবার জেলা প্রশাসক মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার সভাপতিত্বে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে মতবিনিময় ও আলাপ আলোচনা হয়। এবং সবার উদ্দেশ্যে মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবাগুলি কিভাবে আমরা খুব সহজেই তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারব সেই লক্ষ্যে আমাদের সবার কাজ করে যেতে হবে। এবং দেশের উন্নয়নে আমাদের অংশীদার হওয়ার অবস্থান তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের জোরালো ভুমিকা পালন করতে হবে। আমরা জানতে পেরেছি যে নারায়ণগঞ্জে লক্ষ লক্ষ অবৈধ আবাসিক সহ কিছু বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে। যার কারনে সরকার প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। যদিও বহু বছর যাবত আবাসিক গ্যাস সংযোগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও কি করে অফিসের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এই সংযোগ গুলি স্থাপন করছে এটা আমি মেনে নিতে পারছি না। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেন এই অবৈধ সংযোগ গুলি বিচ্ছিন্ন করার জন্য। এই অবৈধ সংযোগ গুলির কারণে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে যার কারণে আমাদের দেশের উন্নয়নের অংশীদার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঠিকমতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এদিকে আমাদের সু নজর দিতে হবে। অন্যথায় আমি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব দেশের উন্নয়নের স্বার্থে। আর বিদ্যুৎ ঘাটতির মূল কারণ হচ্ছে অটো রিক্সার চার্জার স্টেশন গুলি। তাদেরকে কিসের ভিত্তিতে সংযোগ স্থাপন দেওয়া হয় জানতে চেয়েছেন বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে। নারায়ণগঞ্জে হাজার অটো গ্রেজে বিদ্যুতের মাধ্যমে অটোরিক্সার ব্যাটারিতে চার্জ দেওয়া হয়। এবং এর বেশিরভাগ ওই অবৈধ সংযোগ। কিছু বৈধ হলেও সঠিক বিদ্যুৎ বিলটা সরকার পাচ্ছে না । বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কি করে তাদেরকে সংযোগ দিয়েছেন। এবং কতগুলি চার্জার স্টেশন কে সংযোগ দিয়েছেন তা খুব দ্রুত আমাকে জানাবেন। কি কি লাইসেন্স এর উপর নির্ভর করে আপনারা তাদেরকে সংযোগ দিয়েছেন। তা আমাকে জানাবেন। এবং ভবিষ্যতে আর কোন ব্যাটারি চার্জার স্টেশন কে সংযোগ দিবেন না। অবৈধ সংযোগ গুলিকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। কারণ দেশের উন্নয়নে অংশীদার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঠিকমতো বিদ্যুৎ দিতে পারছি না বিদ্যুৎ ঘাটতির জন্য। এই অটো রিক্সা গুলি বিদ্যুতের মাধ্যমে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে চার্জের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ঘাটতি হচ্ছে। এতে একদিকে দেশ সরকারি রাজস্ব হারাচ্ছে অন্যদিকে রপ্তানি মুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে শতভাগ সাফল্য অর্জন করতে পারছে না দেশের উন্নয়নে।তাই আমাদেরকে সবার আগে দেশের স্বার্থ নিয়ে চিন্তা করতে হবে । তাই আপনারা খুব দ্রুত এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যত প্রকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ আছে তা দ্রুত অপসারণ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া। এই দেশ আমার আপনার সবার তাই দেশকে ভালোবাসতে হবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। এ দেশকে পিছিযে পড়তে দেওয়া যাবে না। এ দেশকে আমরা সবাই মিলে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। একটি উন্নয়নশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে পরিণত করব ইনশাল্লাহ। শিল্প প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ। তাই তাদেরকে সবসময় গ্যাস ও বিদ্যুৎ এর চাহিদা যোগান দিয়ে রাখতে হবে। কারণ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে এবং আমাদের একটা বিরাট অংশ জনগণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। তাই এই অবৈধ সংযোগের কারণে আমরা তাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস ও বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে না পারায় একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ঘাটতি হচ্ছে অপরদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এই কাজগুলি আর ভবিষ্যতে করবেন না আপনারা এবং আবারও বলি খুব দ্রুত এই অবৈধ সংযোগগুলি অপসারণের ব্যবস্থা করুন । আর একটাও অবৈধ সংযোগ স্থাপন করবেন না।আরো বলেন আমরা নারায়ণগঞ্জকে গ্রীন এন্ড ক্লিন করার কর্মসূচির আওতায় এনেছি। ইতিমধ্যেই আমরা এর কার্যক্রম শুরু করেছি দেখতে পাচ্ছেন। আপাতত আমরা শহরের যত ব্যানার ফেস্টুন আছে তাও প্রসারণ করছি। রাস্তার ওপর দখলকৃত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযানে চলছে। খুব শীঘ্রই আমরা এক লক্ষ গাছ রোপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এবং পুরো শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছি। আপাতত চাষাড়া মোর এলাকাটিকে পুরোপুরি সিসিটিভির আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হবে খুব শীঘ্রই। আপনারা সবাই আমাদের পাশে থাকবেন ও পরামর্শ দিবেন। নারায়ণগঞ্জকে বাংলাদেশের মধ্যে গ্রীন এন্ড ক্লিন শহর রূপে বাস্তবায়ন করে মডেলে রূপান্তরিত করবো ইনশাল্লাহ।