গলাচিপায় ৩ এপ্রিলের রুটি ২ এপ্রিলে বিতরণ! প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও তদন্তের দাবি অভিভাবকদের।
নিজস্ব প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে আগামীকালকের (৩ এপ্রিল) উৎপাদনের তারিখ সংবলিত বনরুটি (২ এপ্রিল) বিতরণ করা হয়েছে। এই ‘অ্যাডভান্স’ জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকালে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থীদের টিফিন হিসেবে বনরুটি দেওয়া হয়। রুটির প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে ০৩/০৪/২০২৬। অর্থাৎ, যে খাবার এখনো তৈরিই হওয়ার কথা নয়, তা একদিন আগেই শিশুদের হাতে পৌঁছে গেছে।
এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনের দপ্তরে পৌঁছানো হয়নি। তবে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কঠোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
অভিভাবকদের আর্তি ও দাবি:
স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত একাধিক অভিভাবক সাংবাদিকদের জানান, “আমরা সাধারণ মানুষ, বড় কোনো দপ্তরে যাওয়ার সুযোগ বা সাহস আমাদের সবসময় থাকে না। তাই আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমেই আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চাইছি। আমাদের শিশুদের কি বাসি আর জালিয়াতি করা খাবার খাওয়ানো হবে? এই রুটি খেয়ে যদি কোনো শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে তার দায় কে নেবে?”
তারা আরও বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ নিয়ে বড় ধরনের কারসাজি করছে। বাসি খাবারকে টাটকা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্যই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
অভিভাবক ও সচেতন মহল সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন:
১. অবিলম্বে ওই বিতর্কিত রুটি জব্দ করে ল্যাব টেস্ট করা হোক।
২. সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৩. ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য নিয়মিত বাজার ও স্কুল তদারকি বাড়ানো হোক।
বিবেচ্য বিষয় এই যে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি এত বড় একটি প্রকল্পের সুফল যেন অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।