ঐতিহাসিক চরমোনাই বার্ষিক মাহফীল শুরু।
মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব বরগুনা থেকে।
ঐতিহাসিক চরমোনাই ফাল্গুন মাসের বার্ষিক মাহফিল শুরু হয়েছে আজ। সারাদেশ থেকে লাখো মুসলি কাফেলাবদ্ধ ইতোমধ্যে চরমোনাইতে পৌঁছেছেন। ৭টি মুল বয়ানসহ দেশ-বিদেশের উলামায়ে কেরামগণ তিন দিনের এ মাহফিলে বয়ান পেশ করবেন।
মাহফিলের ২য় দিনে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার ইসলামী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। ৩য় দিনে ছাত্র গণজামায়েত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবীসহ মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। চরমোনাই মাহফিল মূলত আত্মশুদ্ধির একটি কার্যক্রম। যেখানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাকেই প্রধান্য দেয়া হয়।
একই সাথে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবেও চরমোনাই মাহফিল গুরুত্বপূর্ণ। মাহফিল উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব সারাদেশের সড়ক অধিদফতর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রশাসনের প্রতি সার্বিক সহযোগীতার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সারাদেশের কয়েক লাখ মুসলি¬ মাহফিল উপলক্ষে বরিশালের দিকে আসবে। মানুষ যাতে সাচ্ছন্দে মাহফিলে আসতে পারে সে লক্ষ্যে সব ব্যবস্থা গ্রহণের আহব্বান জানিয়ে তাদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
বরিশাল মহানগরী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দুরে কীর্তনখোলা নদী তীরে মুসলমানদের আধ্যাত্বিক এ মহা মিলনমেলা ঐতিহাসিক চরমোনাইর বার্ষিক ফাল্গুনের মাহফিলে বুধবার বাদ জোহর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই-এর উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে শুরু হবে। মাহফিলের শেষ দিন শুক্রবার হওয়ায় এ দিনে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে।
আজ বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ ঐতিহাসিক আধ্যাত্মিক মিলন মেলা আগামী শনিবার সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্যো দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে। ঐতিহাসিক চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলে ৭টি মূল বয়ানের মধ্যে আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর ছাহেব চরমোনাই ৫টি এবং নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই ২টি বয়ান করবেন।
এছাড়াও চরমোনাই কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় দরবার সমূহের পীর ছাহেবগণ এবং শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কিরামগণ বয়ান পেশ করবেন।