মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :মুন্সীগঞ্জের অশান্ত চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দির সহিংস ঘটনায় নজির নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
নজির মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারি গ্রুপের সমর্থক।
গত ০৭ জুলাই ও ০৯ জুলাই মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি ও বেহেরপাড়া এলাকায় বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা ও সাবেক চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারি গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার রাতে বর্তমান এবং সাবেক চেয়ারম্যানকে আসামি করে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়।
মামলার পর রিপন হোসেন পাটোয়ারি গ্রুপের লোকজন এলাকা ছাড়া হলেও বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনাসহ তার গ্রুপের সদস্যরা এলাকা দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা স্থানীয় পুলিশের দপ্তরসহ নিজ ইউনিয়ন পরিষদে অফিস করছেন। মঙ্গলবার সকালে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তাকে দেখা যায়।
পাল্টাপাল্টি মামলা হলেও পুলিশ একটি পক্ষ নিয়ে কাজ করছে বলে সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রিপন হোসেন গ্রুপের অনুসারীদের অভিযোগ।
এদিকে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা ও সাবেক চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারি গ্রুপ দুটি এখন মুখোমুখি। তাদের দুই গ্রুপের কাছে মোল্লাকান্দির সাধারণ মানুষ জিন্মি হয়ে আছে।
গত ০৭ জুলাই মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম দেওয়ান, বাবু মাদবর, সাহিদুল মাদবর, নজু মাদবর, আনোয়ার বেপারী ও মনছুর বেপারীর বাড়িতে স্বপন দেওয়ানের নেতৃত্বে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
স্বপন দেওয়ান স্থানীয় ইউপি সদস্য। কয়েকমাস আগে স্বপন দেওয়ান মরণব্যাধি নেশা পপি চাষ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। স্বপনের বিরুদ্ধে বিস্ফারকসহ ছয়-সাতটি মামলা রয়েছে।
এরপর ০৭ জুলাই ঘটনার জেরে গত ৯ জুলাই মুন্সিকান্দি ও বেহের কান্দি গ্রামে বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা ও সাবেক চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারি অনুসারিদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
স্থানীয় মেম্বার প্রার্থী চাচা নুরুল আলম দেওয়ান ও ভাতিজা ইউপি সদস্য স্বপন দেওয়ানের মধ্যে এই সহিংস ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ১০টি বাড়ি-ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। বিস্ফোরণ ঘটানো হয় ককটেল, চালানো হয় গুলি।
এ ঘটনায় রোববার রাতে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় দু’পক্ষ দুটি মামলা করে।
একটির বাদি হয়েছেন পপি চাষ ব্যবসায়ী স্বপন দেওয়ান। এ মামলায় নুরুল আলম দেওয়ানকে প্রধান আসামি করে এবং সাবেক চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারিসহ ৭৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অপর মামলাটি দায়ের করেছেন সাহিদুল মাদবর। এ মামলায় স্বপন দেওয়ানকে প্রধান আসামি করে চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনাসহ ৭৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, নজির নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দু’পক্ষের বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে
Like this:
Like Loading...
Related
এ জাতীয় আরো খবর..